• Breaking News

    Thursday, October 2, 2014

    বলিউডের সিনেমার পঞ্চ রঙ্গ!

    BAG
    কলিকালে যে সবই সম্ভব তা কি বলিউডি সিনেমা না দেখলে আমরা এভাবে বুঝতাম! এখানে নায়ক-নায়িকারা হঠাৎ পথে দাঁড়িয়ে পড়লেই শহরসুদ্ধ লোককে নাচতে-গাইতে দেখা যায়, ছেলেবেলায় শেখা গানের সুরেই হারানো সাথিকে খুঁজে পাওয়া যায়, পোষা বিড়ালটা শত সাধনায়ও খুঁজে না পাওয়া নায়কের কাছে অবলীলায় নায়িকাকে নিয়ে যায়! বলিউডের রুপালি পর্দার এমন পাঁচ ফিল্মি রঙ্গের কথা জানিয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়া।
    ‘হাম আপকে হ্যায় কৌন’ সিনেমায় পোষা কুকুর টাফি। ছবি: ছবি: টিএনএন
    একটা কিছু পুষতেই হবে
    ধনী কিংবা গরিব, ছেলেই হোক কিংবা মেয়ে, হিরো অথবা অ্যান্টিহিরো বলিউড রঙ্গের মৌলিক নিয়ম মানতে হলে একটা না একটা পোষা প্রাণী সঙ্গে রাখতেই হবে। পোষা বিড়াল বা তোতাটা শুধু এটাই বোঝাবে না যে, ‘আপনি কাউকে ভালোবেসে ফেলেছেন’, ফিল্মের নাটকীয় মোচড়টাও সে-ই ঘটিয়ে দেবে! ‘হাম আপকে হ্যায় কৌন’-এর টাফি এই পোষ্য চরিত্রের চরম উদাহরণ। মাধুরীর শেষ চিঠিটা মনীশের কাছে না দিয়ে সালমানকে পৌঁছে দিয়েই এই সিনেমার ‘মধুরেণ সমাপয়েৎ’ অনিবার্য করে তুলেছিল টাফি। কিংবা একবার ভাবুন ‘ম্যায়নে পেয়ার কিয়া’তে পোষা পায়রাটা যদি সালমানের শেষ চিরকুটটা সোজা ভাগ্যশ্রীকে পৌঁছে না দিত তাহলে কী কাণ্ডটাই না হতো! ফর্মুলা তো দেখলেন, এখন মিলিয়ে দেখুন আরও কত সিনেমা পোষা প্রাণী ছাড়া একেবারেই অচল!
    ‘বলিউডি মায়েরা বহুদূর থেকেই ছেলের উপস্থিতি ঠিকই টের পেয়ে যান!’ ছবি: টিএনএন
    বলিউডি মায়ের মন

    বিলেতি নওয়াবের ছেলেই হোক কিংবা গাঁয়ের মায়ের আলাভোলা পুত, মায়েরা বহুদূর থেকেই ছেলের উপস্থিতি ঠিকই টের পেয়ে যান! এ বিষয়ে বলিউডি মায়েদের মানসিক শক্তি এতটাই প্রবল যে মায়েদের ওপর দায়িত্ব ছেড়ে দিলে পুলিশ বিভাগের লোকজনকে বেকার হয়ে যেতে হতো! জয়া বচ্চনের ‘কেথ্রিজি’ এই ক্যাটাগরির দারুণ উদাহরণ। কেবল একবার নয়, এই সিনেমায় শাহরুখ খানের মা তিন-তিনবার আগেভাগেই বুঝে ফেলেছিলেন তাঁর ছেলে আশপাশেই কোথাও আছে! আর এই ফর্মুলাটাও নতুন কিছু নয়। নিরুপা রায় বহুবার এমন চরিত্রে অভিনয় করেছেন। ‘করণ অর্জুন’-এ রাখির চরিত্রও এই ক্যাটাগরিতে পড়তে পারে।
    ‘কাল হো না হো’ সিনেমায় শাহরুখ খানের চরিত্র এর দারুণ উদাহরণ। ছবি: টিএনএন
    ভালোবাসার কথা বলা যাবে না!

    নায়ক যত সুদর্শনই হোক, নায়িকা তাকে যতই পছন্দ করুক না কেন, নায়িকাকে পেতে সে যতই মরিয়া থাকুক না কেন ‘ভালোবাসার কথা বলা যাবে না!’ এই সরল অঙ্কেরই সাফল্য দেখা গেছে বলিউডে বহু সিনেমায়। ‘রঙ্গিলা’, ‘কাল হো না হো’ ইত্যাদি দর্শকপ্রিয় ছবিতে আমরা এটাই দেখেছি। ‘লাভ আজ কাল’-এ সাইফ আলি খানের মতো কিংবা ‘রঙ্গিলা’য় আমির খানের মতো ‘মুখে কুলুপ এঁটে রাখতে হবে’। যাতে সিনেমার কাহিনি অনেকদূর এগিয়ে যেতে পারে, আর নায়িকাকে বিস্তর সময় দিতে হবে, যাতে সে অন্য কারও সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠতে পারে!
    ‘হাম দিল দে চুকে সনম’-এ অজয় দেবগন এভাবেই স্ত্রীকে ফিরে পেয়েছিলেন। ছবি: টিএনএন
    স্ত্রীকে প্রেমিকের কাছে পাঠিয়ে দিলেই জয়!

    আপনি যদি কারও স্বামী হন এবং আপনার স্ত্রী যদি অন্য কাউকে ভালোবাসে তাহলে আপনার উচিত যত দ্রুত সম্ভব স্ত্রীকে তাঁর ভালোবাসার মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়ে আসা। ভয় পাওয়ার কোনো কারণই নেই—এটাই আপনার কাছে তাঁর পাকাপাকিভাবে ফিরে আসার একমাত্র পন্থা! ‘ও সাত দিন’-এ নাসিরুদ্দিন শাহ, ‘হাম দিল দে চুকে সনম’-এ অজয় দেবগন তো ঠিক এভাবেই স্ত্রীকে ফিরে পেয়েছিলেন। তবে এখানেই থামা যাবে না। স্ত্রীর প্রেমিককে খুঁজে বের করা নিয়ে আপনার অভিযান থামানো যাবে না—কেননা আপনাকে আর তাঁর অন্য প্রেমিককে একই ফ্রেমে না দেখা পর্যন্ত তো আপনার স্ত্রী সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন না যে তিনি কাকে বেছে নেবেন!
    ‘শহরের পথেঘাটে কোমর দোলানো নিয়ে কখনোই সংশয়ের কিছু নেই’। ছবি: টিএনএন
    কোমর দোলানো নিয়ে ডরাবেন না

    শপিং মলেই হোক কিংবা শহরের যেকোনো পথেঘাটে কোমর দোলানো নিয়ে কখনোই সংশয়ের কিছু নেই। কেননা আপনি যেখানেই থাকেন না কেন একবার কোমর দোলাতে শুরু করলেই দেখবেন—সবাই শুধু আপনার উদ্ভট নাচের মুদ্রাটাই জানেন না তাঁরা এমনকি আপনি যে গানের সুরে নাচছেন, সেটাও জানেন! অনিল কাপুরের ‘ওয়ান টু কা ফোর’ থেকে শুরু করে সালমান খানে ‘জয় হো’তে শহরের সব লোক কি তাঁদের সঙ্গে নাচ-গান করেননি! আর সালমানের ‘জাওয়ানি ফির না আয়ে’-এর মতো সালমানের ‘তোয়ালে নাচ’ হলে তো কথাই নেই!

    No comments: