• Breaking News

    Sunday, January 8, 2017

    কওমী মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের স্বীকৃতি দিতে চাই: প্রধানমন্ত্রী

    কওমী মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের জন্য নির্দিষ্ট পাঠ্যক্রম প্রণয়নের জন্য ধর্ম মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা প্রদান করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেেছেন, আমরা কওমী মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের স্বীকৃতি দিতে চাই। কওমী মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করে উচ্চশিক্ষা পাবে, সনদ পাবে, দেশে বিদেশে চাকরির সুযোগ পাবে। সেই সুযোগটা আমরা তৈরি করতে চাই।’তিনি বলেন, ‘শিক্ষার জন্য সনদ দিতে হলে একটা মিনিমাম কারিকুলাম লাগবে। না হলে কিসের ভিত্তিতে শিক্ষা হবে, কিসের ভিত্তিতে সনদটা দেয়া হবে। এ বিয়য়ে একমত হলে আমরা এটা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করতে পারি।’বৃহস্পতিবার রাজধানীর ফার্মগেটের বাংলাদেশ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে আয়োজিত উলামা সম্মেলনে প্রধান অতিথির ভাষণে এসব কথা বলে প্রধানমন্ত্রী।দেশের উলামা-মাশায়েখদের সংগঠন বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামা ‘ইসলামের দৃষ্টিতে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ এবং আমাদের করণীয়’ শীর্ষক এই সম্মেলনের আয়োজন করে।প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, ‘সরকার কওমী মাদ্রাসার শিক্ষা ব্যবস্থাপনা, শিক্ষাদানের বিষয় এবং কওমী মাদ্রাসা শিক্ষা সনদের সরকারি স্বীকৃতির লক্ষ্যে সুপারিশ প্রণয়নে বাংলাদেশ কওমী মাদ্রাসা শিক্ষা কমিশন’ গঠন করেছিল। এতে যদি আরো কিছু সদস্য নিতে হয় তাদেরকে নিয়েই এই কাজটা খুব দ্রুত করা দরকার। কমিশনের মাধ্যমে একটি কারিকুলামের ভিত্তিতে আমরা কওমী মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের সনদ চাই।’এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা চেয়ে তিনিবলেন,‌ ‘আমি খুব তাড়াতাড়ি এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেব, আমাদের ধর্মমন্ত্রীও এখানেআছেন, আমি বলবো এই উদ্যোগটা দ্রুত বাস্তবায়ন করতে।’শেখ হাসিনা আক্ষেপ করে বলেন, পাঁচটা বোর্ডে বিভক্ত এই কওমী মাদ্রাসাগুলোর কারিকুলাম তৈরির বিষয়ে আলেম-উলামাগণ একমতহতে পারেননি। যা অত্যন্ত দুঃখজনক।দেশ থেকে সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ উচ্ছেদে আলেম-ওলামাদের আরও সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইসলাম শান্তিও মানবতার ধর্ম এবং সন্ত্রাসী-জঙ্গীবাদী কর্মকাণ্ড যে ইসলাম সমর্থন করে না এসব বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে পারলে কেউ আর বিপথগামী হবে না। আর ইসলামের নামে যারাবিপথগামী হয়েছে তাদের কীভাবে ফিরিয়ে আনা যায় সেটা আলেম-ওলামাদের ঠিক করতে হবে। আসলে ইসলাম ধর্ম কী ও আমাদের জীবনযাত্রায় ইসলাম কী শিক্ষা দেয়- এসব বিষয় সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরতে হবে। মুষ্টিমেয় কিছু মানুষ যাতে ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে সমাজের ক্ষতি করতে না পারে সেজন্য সবাইকে সজাগ ও সচেতন হয়ে গণসচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে।ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। শোলাকিয়া ঈদ জামাতের গ্রান্ড ইমাম ও জমিয়তুল উলামার সভাপতি আল্লামা ফরিদ উদ্দীন মাসউদ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যঅনুষ্ঠানে দেশের এক লাখ আলেম-উলামা স্বাক্ষরিত শান্তি-কল্যাণ ও মানবতার জন্য‘ফতওয়া’র প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হয় এবং ফরিদ উদ্দীন মাসউদ এই এক লাখ আলেমের স্বাক্ষর সম্বলিত ৩০ খন্ড ‘ফতওয়ার’ একটি খন্ড প্রতীকি হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন।

    No comments: